বাংলাদেশের আর্থিক খাত বর্তমানে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বেসরকারি ও সরকারি উভয় ব্যাংকই তারল্য সংকট, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালকে ঘিরে দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশ, বৈশ্বিক মন্দা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে ওঠানামার প্রভাব আরও গভীরভাবে অনুভূত হতে পারে। এ অবস্থায় অনেকেই প্রশ্ন করছেন—বাংলাদেশের কোন কোন ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনায় রয়েছে?
এই প্রতিবেদনে আমরা বিশ্লেষণ করবো ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ, খেলাপি ঋণের হালনাগাদ চিত্র এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের আলোকে ২০২৫ সালে কোন ব্যাংকগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এতে করে সাধারণ গ্রাহক, বিনিয়োগকারী এবং নীতিনির্ধারকরা আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
যা যা থাকছে
বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যাংকগুলোর নাম
🏛️ সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক (State-owned Commercial Banks)
-
সোনালী ব্যাংক লিমিটেড (Sonali Bank Limited)
-
জনতা ব্যাংক লিমিটেড (Janata Bank Limited)
-
অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড (Agrani Bank Limited)
-
রূপালী ব্যাংক লিমিটেড (Rupali Bank Limited)
-
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (BDBL)
🏦 বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক (Private Commercial Banks)
-
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (Dutch-Bangla Bank Limited – DBBL)
-
ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড (BRAC Bank Limited)
-
ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (Islami Bank Bangladesh Limited – IBBL)
-
ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড (Bank Asia Limited)
-
সিটি ব্যাংক লিমিটেড (The City Bank Limited)
-
ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (Eastern Bank Limited – EBL)
-
প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড (Prime Bank Limited)
-
ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড (Trust Bank Limited)
-
ইউসিবি (United Commercial Bank Limited – UCB)
-
এসইএফএল (Southeast Bank Limited)
🕌 ইসলামিক শরিয়া-ভিত্তিক ব্যাংক (Shariah-Based Islamic Banks)
-
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (Islami Bank Bangladesh Ltd.)
-
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (Al-Arafah Islami Bank Ltd.)
-
এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড (Export Import Bank of Bangladesh Ltd.)
-
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (Social Islami Bank Ltd. – SIBL)
-
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (First Security Islami Bank Ltd.)
🌐 বিদেশি ব্যাংকের শাখা (Foreign Bank Branches in Bangladesh)
-
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (Standard Chartered Bank)
-
এইচএসবিসি বাংলাদেশ (HSBC Bangladesh)
-
সিটি ব্যাংক এনএ (Citibank N.A.)
বাংলাদেশের কোন কোন ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা আছে
বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাত নানা সংকটে জর্জরিত। উচ্চ হারে খেলাপি ঋণ, অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির কারণে অনেক ব্যাংক অর্থনৈতিকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। ২০২৫ সাল ঘিরে এই উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিকবার সতর্ক করলেও পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি দেখা যায়নি। এর ফলে সাধারণ গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশের কোন কোন ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে? এই নিবন্ধে আমরা বিশ্লেষণ করবো ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক চিত্র, সম্ভাব্য দেউলিয়া হওয়া ব্যাংকগুলোর তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ।
-
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (IBBL)
-
বড় অংকের সন্দেহজনক ঋণ বিতরণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।
-
বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ তদন্তও করেছে।
-
-
মুক্তি ব্যাংক (নতুন অনুমোদিত, ঝুঁকির মুখে)
-
মূলধন ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
-
-
বেসিক ব্যাংক লিমিটেড
-
দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও খেলাপি ঋণের কারণে সংকটে রয়েছে।
-
-
IFIC ব্যাংক (আংশিক ঝুঁকিতে)
-
রাজনৈতিক প্রভাবিত ঋণ বিতরণের অভিযোগ রয়েছে।
-
-
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (FSIBL)
-
অস্বচ্ছ লেনদেন এবং অনিয়মিত মূলধন চাহিদা মেটাতে ব্যর্থতা দেখা যাচ্ছে।
-
-
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (SIBL)
-
পরিচালনা পর্ষদে অস্থিরতা ও সন্দেহজনক ঋণ বিতরণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
-
-
আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক (ICBIBL)
-
বহু বছর ধরে আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছে এবং মূলধন ঘাটতি প্রকট।
-
কেন এই ব্যাংকগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে?
- কিছু ব্যাংক গ্রাহকের যথাযথ যাচাই না করেই বড় অংকের ঋণ দিয়েছে যা পরবর্তীতে আদায়যোগ্য নয়।
- পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিক নিয়োগ ও অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি অনেক ব্যাংককে অকার্যকর করে তুলেছে।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত মূলধন সংরক্ষণ করতে না পারা ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
- সঠিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ না করেই ঋণ অনুমোদন এবং তদারকির অভাব অনেক ব্যাংকের পতনের পথ তৈরি করছে।
২০২৫ সালকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকি এবং অস্বচ্ছ ঋণ নীতির ফলেই কিছু ব্যাংক আজ দেউলিয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, তবে তা এখনো যথেষ্ট নয় বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এই সংকট শুধু ব্যাংক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নয়, বরং পুরো দেশের অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কবার্তা। কারণ ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে সাধারণ গ্রাহকের আস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তার ওপর। অতএব, এখনই সময় ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার। একই সঙ্গে গ্রাহকদেরও আরও সচেতন ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে যেন তারা নিজের সঞ্চয় রক্ষা করতে পারে।
আশা করা যায়, সমন্বিত উদ্যোগ এবং কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাত আবারও স্থিতিশীলতার পথে ফিরবে এবং জনগণের আস্থা ফিরে পাবে।
