স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা ও অসুবিধা কি কি

বর্তমান যুগে শিক্ষার্থীদের আর্থিক স্বাধীনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষাজীবনে অনেক সময় বই কেনা, ফি প্রদান, অনলাইন কোর্স, কিংবা দৈনন্দিন খরচের জন্য টাকার প্রয়োজন হয়। তবে সবাই নিয়মিত আয় করে না, তাই ব্যাংকগুলো বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়ে এসেছে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড
এটি এমন একটি সীমিত ব্যয়ের ক্রেডিট কার্ড যা ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করে, পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে অর্থ ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি করে। বাংলাদেশে সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুবিধা চালু করেছে।
নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা, অসুবিধা ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে।

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের প্রধান সুবিধা

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড শুধু কেনাকাটার মাধ্যম নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের আর্থিক দক্ষতা গড়ে তোলে। নিচে এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুবিধা উল্লেখ করা হলো—

১. সীমিত ক্রেডিট লিমিট:
শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ক্রেডিট লিমিট সাধারণত ১০,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে থাকে। এতে অতিরিক্ত খরচের ঝুঁকি কমে এবং বাজেটের মধ্যে থাকার অভ্যাস গড়ে ওঠে।

২. শিক্ষা ও অনলাইন খরচে সুবিধা:
এই কার্ডের মাধ্যমে অনলাইন কোর্স, বই, সফটওয়্যার, এমনকি পরীক্ষার ফি পরিশোধ করা যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষা সংক্রান্ত ব্যয় সম্পন্ন করতে পারেন।

৩. রিওয়ার্ড ও ডিসকাউন্ট সুবিধা:
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট, কফি শপ, অনলাইন স্টোরে কার্ডধারীরা বিশেষ ছাড় ও রিওয়ার্ড পয়েন্ট পান। এতে তারা কিছু অর্থ সাশ্রয় করতে পারেন।

৪. ডিজিটাল লেনদেনের অভিজ্ঞতা:
স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল পেমেন্ট, এবং ডিজিটাল ফাইন্যান্সের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

৫. ক্রেডিট স্কোর গঠনের সুযোগ:
কার্ডটি নিয়মিত ও সময়মতো পরিশোধ করলে ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণ বা বড় ক্রেডিট লিমিট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এটি তাদের আর্থিক রেকর্ডকে শক্তিশালী করে।

৬. জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা:
অপ্রত্যাশিত কোনো প্রয়োজনে যেমন চিকিৎসা, ভ্রমণ বা একাডেমিক খরচের জন্য এই কার্ড শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে পারে।

See also  সঞ্চয়পত্রে মুনাফার নতুন হার ২০২৫ । ১ লক্ষ টাকায় প্রতি মাসে নিট মুনাফা কত টাকা

সবমিলিয়ে, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হওয়ার এক বাস্তব সুযোগ তৈরি করে।

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

যদিও স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড অনেক সুবিধা দেয়, তবুও কিছু সীমাবদ্ধতা এবং ঝুঁকিও রয়েছে যা জানা জরুরি।

১. ঋণের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি:
যদি শিক্ষার্থী সময়মতো কার্ডের বিল পরিশোধ না করেন, তবে ইন্টারেস্ট বা লেট ফি যোগ হয়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে ঋণের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

২. উচ্চ সুদের হার:
অপরিশোধিত বিলের উপর সাধারণত ২০% থেকে ২৫% পর্যন্ত সুদ প্রযোজ্য হয়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ ভারী হতে পারে।

৩. সীমিত ব্যবহারযোগ্যতা:
সব অনলাইন বা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করা হয় না। অনেক সময় শুধুমাত্র স্থানীয় লেনদেনেই এটি সীমাবদ্ধ থাকে।

৪. অপব্যবহারের ঝুঁকি:
অভিজ্ঞতা বা অর্থনৈতিক সচেতনতার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী অপ্রয়োজনীয় খরচ করে ফেলতে পারে, যা ভবিষ্যতে আর্থিক সমস্যার কারণ হতে পারে।

৫. বার্ষিক ফি ও চার্জ:
কিছু ব্যাংক বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি বা হিডেন চার্জ নেয়, যা শুরুতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে না।

তবে নিয়মিত বিল পরিশোধ, সচেতন ব্যবহার এবং খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখলে এসব অসুবিধা সহজেই এড়ানো যায়।

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বাংলাদেশে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া খুব বেশি জটিল নয়, তবে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।

যোগ্যতা:

  • বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।

  • আবেদনকারীকে কোনো স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকতে হবে।

  • স্থায়ী ঠিকানা থাকতে হবে।

  • কিছু ক্ষেত্রে পিতামাতা বা অভিভাবককে কো-অ্যাপ্লিকেন্ট হতে হয়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড বা ভর্তি প্রমাণপত্র

  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি

  • অভিভাবকের আয়ের প্রমাণপত্র

  • পূর্ণাঙ্গ আবেদন ফর্ম

আবেদনের ধাপ:
১. নিকটস্থ ব্যাংক শাখায় যান বা অনলাইনে আবেদন করুন।
২. কাগজপত্র যাচাই শেষে ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড অনুমোদন করে।
৩. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্ড সরবরাহ করা হয় এবং এসএমএসের মাধ্যমে অ্যাক্টিভেট করার নির্দেশনা পাঠানো হয়।

See also  পূবালী ব্যাংকের বিভিন্ন লোন সূমহ | Pubali Bank Loan

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড শিক্ষার্থীদের জীবনে অর্থনৈতিক সচেতনতা, বাজেট পরিকল্পনা এবং আত্মনির্ভরতার একটি নতুন পথ উন্মোচন করে। তবে এটি যেন সুবিধা থেকে অসুবিধায় না রূপ নেয়, তাই নিয়মিত বিল পরিশোধ ও ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি হতে পারে ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি গঠনের হাতিয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *